মহান স্বাধীনতা দিবস ২০২১

by Syed Tayeem Hossain

আমাদের বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন। ৫০ বছর আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ায় অর্জিত হয়েছিল এ স্বাধীনতা। মরণপণ লড়াই এবং রক্তসমুদ্র পাড়ি দিয়ে আমরা বীর বাঙালি জাতি ছিনিয়ে এনেছিলাম জাতীয় ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা।

আমরা বীরের জাতি আজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে দিবসটি উদযাপন করে থাকি। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। এ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়। টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ বিশেষ ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়। মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

এই দিনটিতে আমরা সমগ্র জাতি অনেক আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতার স্মৃতিতে উদ্বেলিত হয়ে বাঁধভাঙ্গা প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠি। ফুলে ফুলে ভরে উঠে জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ দেশের সব স্মৃতির মিনার। হৃদয়পটে সৃষ্ট গভীর ক্ষত থেকে ভেসে উঠে ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি বাংলাদেশের নাম’ পংক্তিমালার মর্মার্থ। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর সন্তানদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। শ্রদ্ধা নিবেদন করি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জাতীয় নেতাদের এবং গণহত্যার শিকার লাখো মানুষ ও সম্ভ্রম হারানো শত শত মা-বোনের প্রতি।

হঠাৎ করে আচমকা এই স্বাধীনতা অর্জন হয়নি। সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দু’শো বছরের ব্রিটিশ-বেনিয়া শাসনের অবসানের পর ২৪ বছর ধরে চলে বিজাতীয় ভাষাভাষী গোষ্ঠীর শাসন-শোষণ ও আগ্রাসন। ’৪৭-এর দেশভাগের পর উর্দু শাসকদের নানা কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে বাঙালির সংগ্রামের চেতনার উন্মেষ ঘটতে থাকে। মাতৃভাষার দাবিতে ’৪৮ সাল থেকে শুরু করে ’৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারী রক্তদান, সংগ্রাম-আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে রায়, ’৫৬-তে এসে সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বীকৃতি আদায়, ’৬২-এর শিক্ষা কমিশন আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬ দফার মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তিসনদ ঘোষণা, ’৬৯-এর ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের বিদায় এবং ’৭০-এ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের ধারাবাহিকতায়ই এসেছে এই স্বপ্নের স্বাধীনতা।

এই স্বাধিনতার সাথে জড়িয়ে আছে এক বিবাট ইতিহাস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী স্বাধিকার আন্দোলনরত বাঙালির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। আমাদের বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন- একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়। আমাদের কাছে স্বাধীনতার চেতনায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার দিন হচ্ছে এই স্বাধিনতা দিবস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয়ে স্বাধীনতার এই ৫০তম বার্ষিকীতে আমরা বাঙালী জাতি মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবো। আমাদের প্রতি বছর পেছনে তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় এই ২৬ মার্চ। একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চালিয়েছিল নির্মম হত্যাযজ্ঞ। সেই মৃত্যুর বিভীষিকা থেকে এক হয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিলাম এ দেশের সাধারণ মানুষ। পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে শুরু করি আমরা বাঙালিরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের আহ্বানে জেগে ওঠি আমরা নিরীহ বাঙালি। যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রæর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিই। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। এরপর টানা নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধ্বংসলীলা ও পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াইয়ে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ছিল বিশাল। আমরা বাঙালি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম এমন একটি রাষ্ট্র, যা প্রতিষ্ঠিত হবে কিছু আদর্শের ভিত্তির ওপর। স্বাধীনতা দিবস আবার এসেছে অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সেসব আদর্শের দিকে ফিরে তাকানোর দাবি নিয়ে।

(ইন্টারনেট থেকে সংকলিত) ###

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔