নামাজ বিনয়ী ব্যক্তির আত্মিক উন্নয়নের মাধ্যম
নামাজের প্রতি আহলে বাইতের (আ.) অপরিসীম ভালোবাসা
সিজদা মানে নিজের ব্যক্তিত্ব, আত্মপরিচয় ও অহংকার বলতে যা বুঝায় তা একে একে ছুড়ে ফেলা। তারপর আল্লাহকে বলা, ‘আমি তোমার বান্দা ও অনুগত দাস।’ কোরআন মজিদে এ জন্যই বলা হয়েছে, ‘তুমি সিজদা কর এবং সান্নিধ্য অর্জন কর।’ নামাজে আল্লাহর সান্নিধ্যের এই অনুশীলন প্রথম থেকেই শুরু হয়।
আমাদের সূরা ফাতেহা পাঠ যেন মহান আল্লাহর সঙ্গে আলাপন। ইসলামে নামাজের উচ্চ স্থানের কথা উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ রাশাদ বলেছেন: ইসলামী ধর্মীয় ব্যবস্থায় নামাজের রয়েছে এক বিরাট লক্ষ্য।
ইমাম রেজা (আ.) ধর্ম শিক্ষাকেন্দ্রের ছাত্র, অধ্যাপক ও বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত সেমিনারে আয়াতুল্লাহ রাশাদ “প্রকৃত নামাজ আদায়কারীদের নামাজের আদব ও বৈশিষ্ট্য” বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
মেহের নিউজের বরাত দিয়ে পার্স টুডে জানিয়েছে, সমাজ ও যুবসমাজের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে এই সভায় আয়াতুল্লাহ রাশাদ নামাজের বিস্ময়কর রহস্য এবং বিশ্বাসীদের জীবনে এর গভীর প্রভাব ব্যাখ্যা করেছেন।
ইসলামে নামাজের উচ্চ মর্যাদার কথা উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন: ইসলামী ধর্মীয় ব্যবস্থায় নামাজের মহান লক্ষ্য এবং গভীর চিন্তার খোরাক রয়েছে যা ইসলামী জীবনধারায় প্রকাশিত হয়।
সূরা বাকারার ৪৫তম আয়াতে আল্লাহ বলছেন, “… আর তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো!” এই আয়াতকে উদ্ধৃত করে আয়াতুল্লাহ রাশাদ বলেন, নামাজ হলো বিনয়ী ব্যক্তির আত্মিক উন্নয়নের মাধ্যম এবং এই ইবাদত কেবল তাদের জন্যই হালকা এবং মধুর হয়ে ওঠে যারা বিনয়ের সাথে দাঁড়ায়।
তিনি আহলে বাইতের মহান ইমামগণের (আ.) বর্ণনার উল্লেখ করে আরও বলেন: আমিরুল মু’মিনীন আলী (আ.) নামাজে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে, নামাজের সময় তাঁর পা থেকে তীর বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি অনুভব করতে পারেননি।
এছাড়াও, তাসুআর রাতে (৮ই মোর্হারম দিবাগত রাত) ইমাম হুসাইন (আ.) বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমি নামাজকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।” এ কথাটি, এই ঐশী দায়িত্বের প্রতি আহলে বাইতের (আ.) অপরিসীম ভালোবাসারই ইঙ্গিত দেয়। পরিশেষে, আয়াতুল্লাহ রাশাদ নামাজকে “আধ্যাত্মিক বিকাশের সীমাহীন সমুদ্র” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন: কুরআন এবং হাদীসে নামাজের রহস্য কেবল পরিমা
ণের দিক থেকে নয়, বরং মানুষের আত্মার উপর এর গভীর প্রভাবের দিক থেকেও বিস্ময়কর।”
