হযরত আবু তালিব (আ.)’র জন্মদিবস উপলক্ষে খুলনায় কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ীতে আনন্দ অনুষ্ঠান

by Syed Yesin Mehedi

২৯শে শাওয়াল, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (শনিবার), বাদ মাগরিব আনন্দ অনুষ্ঠান সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, গজল, হামদ ও নাত-এ-রাসুল -এর মাধ্যমে|
মাহফিলে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী বক্তব্য রাখেন| তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এর জন্মের সাথে সাথে তাঁর দেখাশুনার দায়িত্ব তার দাদা  হযরত আব্দুল মোত্তালিবের কাছে আসে যখন তিনিও রাসুলের (সা.) ৭ বছর বয়স হতে না হতে দুনিয়ার বুক থেকে বিদায় নেন অতঃপর তাঁর দেখাশুনার দায়িত্ব হযরত আবু তালিবের কাছে আসে| হযরত আবু তালিব তাকে নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি ভালবাসতেন এবং রাতের বেলায় তাকে নিজের কাছে নিয়ে ঘুমাতেন এমনকি যখন তিনি সফরে যেতেন তখনও তাকে সাথে করে নিয়ে যেতেন| তিনি রাসুল (সা.) ভাল খাদ্য খাওয়াতেন| হযরত আবু তালিব ও হযরত খাদিজার মৃত্যু রাসুল (সা.)-কে এতই মর্মাহত করে যে তিনি সেই বছরকে আমুল হুযন বলে আখ্যায়িত করেন| অনেকেই আলী (আ.) এর প্রতি শত্রুতা থাকার কারণে আবু তালিবকে কাফের বলে প্রমাণিত করার চেষ্টা করে| আবার অনেকে রাসুলের বাবা মাকেও কাফের বলে প্রমাণিত করার চেষ্টা করে| কিন্তু হযরত আলী (আ.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন: শপথ খোদার না আমার বাবা এবং আমার পূর্ব পুরুষরা (আব্দুল মোতালেব, হাশেম এবং আব্দে মানাফ) কখনই মুর্তি পুজা করেননি| তারা কাবার দিকে ফিরে নামাজ পড়তেন এবং তারা দ্বীনে ইব্রাহিমের উপরে ঈমান রাখতেন|
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, হযরত আবু তালিবের ঈমানের বহিঃপ্রকাশ না করার বিষয়টি হচ্ছে সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক বিষয় কেননা, আবু তালিবের ঈমানের ক্ষেত্রে একাধিক দলিল রয়েছে যে তিনি ইসলামের প্রতি ঈমান নিয়ে এসেছিলেন| যার সম্পর্কে শিয়া সুন্নি উভয়েই তার ঈমান সম্পর্কে নিজেদের অভিমত ব্যাক্ত করেছেন এবং সত্যায়িত করেছেন যে সে ছিল একজন মুমিন ব্যক্তি| কিন্তু তারপরেও কিছু বিদ্বেষী ভাবাপন্ন লোকেরা তাকে কাফির বলে প্রমাণিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে| প্রকৃতপক্ষে তাদের শত্রুতা হচ্ছে হযরত আলী (আ.) সাথে কেননা যদি তারা আবু তালিবকে কাফির বলে প্রমাণিত করতে পারে তাহলে তারা হযরত আলী (আ.) এর মনক্ষুন্নতার ক্ষেত্রে সাফল্যতা লাভ করতে পাবে| রাসুল (সা.) থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, হে আলী তোমাকে তারাই ভালবাসবে যারা হবে মুমিন আর তারাই শত্রুতা পোষণ করবে যারা হবে মুনাফিক| আর তাই আমাদের উচিত হবে যে কাউকে অযথা কাফের না বলে প্রকৃত সত্যকে জানার চেষ্টা করা| তাহলেই আমাদের বিচার বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে|
হযরত আবু তালিব (আ.)-এর জন্মদিনে খুলনা কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ীতে আনন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুমিন ও মুমিনাতের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ| মাহফিল শেষে দোয়া ইমামে জামান (আ.) এবং তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে|

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔