খুমসের আহকাম

হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী - এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত

by Syed Yesin Mehedi

মাসআলা (১২১৯): প্রাকৃতিক চরণভূমিসমূহ, যেগুলোতে অতীতে কারো ব্যক্তি মালিকানার ইতিহাস নেই, তা আনফাল ও সর্বজনীন সম্পদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হবে এবং এর এক্তিয়ার ওয়ালীয়ে আমরে মুসলিমিনের হাতে থাকবে। কোনো অবস্থায় তা ক্রয়-বিক্রয় করা সঠিক হবে না। তদ্রুপ উপজাতীয়দের সেখানে চলাচল থাকার কারণে তা তাদের মালিকানাভুক্ত হওয়ার কারণ হবে না।
মাসআলা (১২২০): প্রাকৃতিক সর্বজনীন চারণভূমিসমূহ, যা পূর্বে কারো ব্যক্তি মালিকানাভুক্ত ছিল না, সেখানকার ঘাস কারো স্বতন্ত্র সম্পত্তি নয় এবং কারো পক্ষ থেকে তা বিক্রয় করা জায়েয নয়। তবে যে ব্যক্তি সরকারের পক্ষ থেকে গ্রামের কর্তা হয়, সে গ্রামের জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য যারা সেখানে চতুষ্পদী জন্তুদের চরানোর অনুমতি প্রাপ্ত, তাদের থেকে কিছু টাকা নিতে পারে।
মাসআলা (১২২১) : শুধু  ব্যক্তিগত সম্পত্তির আশপাশের চারণভূমিতে পশু চরানোর অনুমতি থাকার সুবাদে অন্যের সম্পত্তিতে প্রবেশ করার ও মালিকানাভুক্ত পানি ব্যবহার করার জন্য যথেষ্ট হয় না। তাদের জন্য ঐ পানির মালিকের অনুমতি ব্যতীত একাজ করা জায়েয নয়।
মাসআলা (১২২২): যেহেতু ওয়াক্ফ শারয়ীভাবে সঠিক হওয়ার জন্য আগে শর্ত হলো উক্ত সম্পত্তির মালিক থাকা, যেমনভাবে মীরাস সূত্রে সম্পত্তি অন্যের মালিকানায় স্থানান্তরিত হওয়ার জন্যও আগে শর্ত হলো মৃত ব্যক্তির উক্ত সম্পত্তির শারয়ীভাবে মালিক থাকা; কাজেই প্রাকৃতিক বনভূমি ও চারণভূমিসমূহ, যেগুলো এ পর্যন্ত কারো মালিকানাভূক্ত ছিল না এবং সেখানে অতীতে কোনরূপ আবাদ ও উজ্জীবিতকরণের ইতিহাস নেই, একারণে সেগুলো কারো ব্যক্তি মালিকানাভূক্ত হিসাবে গণ্যই হবে না, যে এর ওয়াক্্ফীয়ত্ব সঠিক হবে, অথবা মীরাস সূত্রে তা অন্যের মালিকানায় স্থানান্তরিত হবে। সর্বোপরি বনভূমির যতটুকু অংশ শারয়ী ও বৈধ অনুমতিক্রমে ক্ষেত-খামার কিংবা বসতভূমি ইত্যাদি রূপে উজ্জীবিত করা হয়েছে এবং শারয়ীভাবে মালিকানাভুক্ত হয়েছে, তা যদি ওয়াক্ফ হয়ে থাকে, তাহলে তাতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার শারয়ী তত্ত্বাবধায়কের হাতে ন্যাস্ত থাকবে। আর যদি ওয়াক্ফ না হয়ে থাকে, তাহলে তার কর্তৃত্ব তার মালিকের অধিকার। আর বনভুমি ও চরণভুমির যে অংশটি প্রাকৃতিক বনভুমি হিসাবে অবিশষ্ট রয়েছে, তা আনফাল ও সর্বজনীন সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং এর কর্তৃত্ব আইনের বিধান অনুযায়ী ইসলামী রাষ্ট্রের হাতে থাকবে।

সূত্রঃ রেসালায়ে মুস্তাখাব আল-আহকাম  বই থেকে সংগ্রহীত

হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী – এর ফতোয়া অনুযায়ী   সংকলিত

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔