সূরা সাফফের তাফসীর

by Syed Yesin Mehedi

ইসলামকে বিশ্বজনীন ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দানে খোদায়ী প্রতিশ্রুতি
অতঃপর সূরা সাফ্ফের ৯ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে,
‘তিনিই তাঁর রাসূলকে পথনির্দেশ ও সত্যধর্মসহ প্রেরণ করেছেন।’ তিনিই মহান আল্লাহ; আমরা যার সাহায্যের মুখাপেক্ষী, তার পক্ষ থেকেই হেদায়েত ও বিজয় আমাদের দিকে আসে এবং আমরা তারই প্রতি আস্থাশীল ও নির্ভরশীল। সেই আল্লাহই তো হযরত মুহাম্মাদকে (সা.) স্বীয় সর্বশেষ রাসূল হিসেবে আমাদের মাঝে প্রেরণ করেছেন।পথনির্দেশ ও সত্যধর্মসহ প্রেরণ করেছেন’ অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্ম দিয়ে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। সত্য ধর্ম বলতে এমন জীবন বিধানকে বুঝায় যা সৃষ্টি জগতের নিয়মনীতি এবং এ পৃথিবীতে ঐশ্বরিক বিধি মোতাবেক মানব জীবন পরিচালনা করে থাকে। হক বা সত্য বলতে এমনই সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যাস ধারাকে বুঝায় যা এ সৃষ্টিজগতের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এর বিপরীত অবস্থাকে বলা হয় বাতিল। এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, আল্লাহ কেন এ হেদায়েত ও সত্যধর্মকে তার রাসূলের (সা.) সাথে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরও আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘যাতে একে সমুদয় ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন।’ অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা এ সত্যধর্মকে (ইসলামকে) মানব জাতির নিকট পাঠিয়েছেন যাতে তা সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শের উপর প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্ব পায়, বস্তুত এ উদ্দেশ্যেই ইসলামের আগমন ঘটেছে। ইসলাম এজন্য পৃথিবীতে আসে নি যে, তা কোন অঞ্চলের কিছু লোককে হেদায়েত ও পরিচালনা করবে। বরং ইসলাম সমগ্র বিশ্বের সর্বজনীন ধর্ম এবং তা গোটা মানব জাতির জীবন ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। আমরা যদি এ বিশ্বজগতকে একটি গৃহের সাথে তুলনা করি, তবে ইসলামকে এমনই এক জীবন ব্যবস্থা ও জীবন বিধান হিসেবে গণ্য করতে পারি; যা গোটা ঐ গৃহকে পরিচালনার জন্য এসেছে। এ ধর্ম কখনও ঐ গৃহের আংশিক কিছু তদারকির জন্য আসে নি। যদি এ বিশাল বিশ্বজগতের একটি অংশ আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অপর অংশ আল্লাহর মনোনীত ধর্মের তত্ত্বাবধানে থাকে, তাহলে এ অংশের ব্যবস্থাপনা ঐ অবস্থার ন্যায় হবে না যে অবস্থাতে সমগ্র বিশ্ব খোদায়ী ধর্মের আয়ত্তাধীন থাকে। সুতরাং হে বিশ্ববাসী! হে ঈমানদারগণ! হে ইসলাম ধর্মের অনুসারী ও অনুগতরা! এবং হে ইসলাম ধর্মের দুশমনরা! জেনে রাখুন যে, ইসলাম এ কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে যাতে সমগ্র বিশ্বজগতকে পরিচালনা এবং একই সাথে সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ধর্মসমূহ বলতে বুঝায় সামাজিক ব্যবস্থাসমূহ এবং জীবন বিধানসমূহ। প্রতিটি জীবন বিধানই হচ্ছে এক একটি ধর্ম এবং একইভাবে ধর্ম হচ্ছে জীবন বিধান তথা জীবন পরিচালনার নীতি-পদ্ধতি। ইসলাম সমস্ত জীবন বিধান ও জীবন পদ্ধতির উপর কর্তৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। বস্তুত ইসলামের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে এটি; না নিছক আমার ও আপনার আকিদা পোষণের নিমিত্তে কিংবা সমাজের অধিকাংশ মানুষের তদারকির জন্য এসেছে।
যারা এককভাবে ইসলাম ধর্মকে পছন্দ করে না এবং চায় নিজেদের ধর্ম ও মতাদর্শও তাদের স্বার্থ মোতাবেক সমাজের উপর প্রভাব বিস্তার করুক -স্বার্থ বলতে তাদের পার্থিব ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বার্থের প্রতি ইশারা করা হয়েছে-; আর ইসলামও এ সব মতাদর্শের পার্শ্বে অন্যতম ধর্ম হিসেবে বহাল থাকুক। এদের সম্পর্কে আয়াতে কি বলা হচ্ছে? আয়াতের ভাষায়, ‘ যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।’ কুরআনের ভাষায় এরা হচ্ছে ‘মুশরিক’। মুশরিক তাদেরকে বলা হয় যারা ইসলাম ছাড়াও অন্যান্য ধর্মে আকিদা পোষণ এবং আল্লাহ ছাড়াও আরও একাধিক প্রভূতে বিশ্বাস পোষণ করে। মহান আল্লাহ এ সব লোকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন- যদিও (ইসলামের বিজয়) তাদের নিকট অপছন্দনীয় মনে হয় এবং এ বিষয়টি তাদেরকে ক্রুদ্ধ করে; কিন্তু তদুপরি আমি (আল্লাহ) ইসলামকে আমার মনোনীত ধর্ম হিসেবে মানব জাতি এবং সমগ্র বিশ্বের উপর বিজয়ী ও কর্তৃত্বশীল করব।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔