৩০৯. যদি ইহরামকারী কয়েক ধরনের সেলাইকরা কাপড় পরে, যেমন জামা, ওভারকোট, আবা ইত্যাদি তাহলে প্রত্যেকটির জন্য তাকে কাফফারা প্রদান করতে হবে আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো যদি সেগুলো একটিকে আরেকটির মধ্যে ভরে একবারে পরিধান করে তবুও প্রত্যেকটির জন্য কাফফারা দিতে হবে।
৩১০. যদি জরুরি কারণে একাধিক কাপড় পরার পরিধান করে, তাহলে কাফফারা রহিত হবে না।’
৩১১. যদি একই প্রকার কাপড় পরে যেমন জামা ও কাফফারা প্রদান করে এবং আবারো অন্য একটি জামা পরে কিম্বা যে জামাটি পরেছিল সেটা খুলে পুনরায় পরে তাহলে পরবর্তী বারের বাবদও কাফফারা দিতে হবে।
৩১২. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো যদি একই ধরনের কয়েকটি কাপড় পরে- যেমন কয়েকটি ওভারকোট কিম্বা কয়েকটি জামা, তা একই বৈঠকে কিম্বা একাধিক বৈঠকে, তাহলে প্রত্যেকটির জন্য কাফফারা দিতে হবে।
৩১৩ সপ্তমঃ সুরমা বা কাজল লাগানো,, এমন কোন কালো দ্রব্য দ্বারা যার মধ্যে সৌন্দর্য থাকে। যদিওবা সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে তা হয়ে থাকে। আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো সব ধরনের সুরমা কাজলকে পরিহার করা, যার মধ্যে সৌন্দর্য রয়েছে। বরং শক্তিশালী মত হলো যদি সুঘ্রাণ থাকে তাহলে তা হারাম।
৩১৪. সুরমা বা কাজল লাগানো হারাম হওয়া কেবল নারীর জন্যেই নির্দিষ্ট নয়। পুরুষের জন্যেও তা হারাম।
৩১৫. সুরমা বা কাজল লাগানোর কারণে কাফফারা প্রদান করতে হয় না। কিন্তু যদি কাজলে সুঘ্রাণ থাকে তাহলে সতর্কতা হলো কাফফারা প্রদান করা।
৩১৬. যদি সুরমা লাগানো অপরিহার্য হয়, তাহলে নিষেধ নেই।
অষ্টম: আয়নায় তাকানো
৩১৭. এই নির্দেশের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের কোন পার্থক্য নেই।
৩১৮, শান্ দেয়া চকচকে জিনিস যাতে ছবি প্রতিফলিত হয় তার দিকে তাকানো এবং স্বচ্ছ পানিতে তাকানো আপত্তির নয়।
৩১৯. চশমাপরা যদি সৌন্দর্যের জন্যে না হয়, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু যদি সৌন্দর্য বলে গণ্য হয় তাহলে জায়েজ নয়।
৩২০, আয়নায় তাকানোর কারণে কাফফারা নেই। কিন্তু মুস্তাহাব হলো তাকানোর পরে লাব্বাইকা বলা।
৩২১. যে কক্ষে অবস্থান করছে সেখানে যদি আয়না থাকে এবং জানে যে কখনো কখনো তার চোখ ভুলক্রমে আয়নায় পড়ে যাবে, তাহলে অসুবিধা নেই। তবে সতর্কতা হলো সেটাকে সরিয়ে ফেলা কিম্বা কোন কিছু তার ওপরে টাঙ্গিয়ে দেয়া।
৩২২. সতর্কতা হলো আয়নার দিকে তাকাবে না যদিওবা সৌন্দর্যের জন্য না হয়।
নবম : মোজা, বুট জুতো ইত্যাদি যা কিছু পায়ের সমগ্র উপরিভাগকে ঢেকে ফেলে তা পরিধান করা
৩২৩. এ নির্দেশটি পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট। মহিলাদের জন্য এতে কোন নিষেধ নেই।
৩২৪. যদি পুরুষের এমন কিছু পরিধান করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে যা পায়ের উপরিভাগকে ঢেকে দেয়, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো তার উপরিভাগকে
বিদীর্ণ করে দেবে।
৩২৫. যা কিছু পায়ের উপরিভাগকে ঢেকে দেয় তা পরার কারণে কোন কাফফারা নেই।
দশমঃ ফুসুক তথা অনাচার বা পাপাচার
৩২৬, পাপাচার কেবল মিথ্যা বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং গালিগালাজ করা এবং অন্যের ওপর অহঙ্কার করাও পাপ বা অনাচার বলে গণ্য। আর এসব অনাচারের জন্য কাফফারা নেই। কেবল ইস্তিগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। তবে কিছু না কিছু কাফফারা প্রদান করা মুস্তাহাব। আর যদি গরু কুরবানি করে তাহলে সেটাই উত্তম।
একাদশঃ ঝগড়া-বিবাদ অর্থাৎ (আল্লাহর কসম, ‘না’) অথবা (আল্লাহর কসম, ‘হ্যাঁ’) বলা
এম, এ, শুধু ‘না’ কিম্বা ‘হ্যাঁ’ কথাটি বিবাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং কোন দাবি প্রমাণ অথবা নাকচ করার জন্যে কসম খাওয়াই হলো বিবাদ।
৩২৮, কসম যদি ‘আল্লাহ্’ শব্দ দ্বারা হয় অথবা অন্য ভাষায় তার সমার্থক শব্দ যেমন ‘খোদা’ হয় তাহলে বিবাদ গণ্য হবে। কিন্তু এতদ্ভিন্ন অপর কারো নামে কসম খাওয়া বিবাদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
৩২৯. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো আল্লাহর অন্যান্য মহিমান্বিত নামসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। কাজেই কেউ যদি ‘রহমান’, ‘রাহীম’, ‘খালেকুছ ছামাওয়াতি ওয়াল আরদ’ ইত্যাদি বলে কসম খায়, তাহলে সতর্কতমূলক ওয়াজিব অনুযায়ী তা বিবাদ বলে গণ্য হবে।
৩৩০. কোন সত্যকে প্রমাণিত করা কিম্বা মিথ্যাকে নাকচ করার জরুরি ক্ষেত্রে আল্লাহর নামে কসম খাওয়া জায়েজ।
৩৩১. যদি বিবাদের মধ্যে সত্যবাদী হয় এবং সে তিনবারের কম কসম খায় তাহলে তার ওপর কিছুই বর্তাবে না, কেবল ইস্তিগফার বা ক্ষমাপ্রার্থনা করা ছাড়া। আর তিনবার কসম করলে কাফফারা দিতে হবে। আর তার কাফফারা হলো একটি ভেড়া।
দ্বাদশ: যে সকল কীটপতংগ শরীরে বাস করে, যেমন উকুন ইত্যাদি সেগুলো হত্যা করা
ত্রয়োদশ: সৌন্দর্যের জন্য আঙ্গুলে আংটি পরিধান করা। আর যদি মুস্তাহাব- এর জন্য হয় তাহলে বাধা নেই’
৩৩২, যদি সৌন্দর্যের জন্যে বা মুস্তাহাবের জন্যে না হয়ে বরং অন্য কোনো উপকারের জন্য আঙ্গুলে আংটি পরে, তাহলে আপত্তি নেই।
৩৩৩. সতর্কতামূলক ওয়াজিব’ হলো ইহরামকারী সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে মেহেদী লাগাবে না। বরং যদি সৌন্দর্য হয়, তাহলে ঐ উদ্দেশ্য না থাকলেও সতর্কতা হলো তা ত্যাগ করা। বরং উভয় ক্ষেত্রেই তা হারাম হওয়াটা অহেতুক নয়।
৩৩৪. হাতে আংটি পরা এবং মেহেদী লাগানোর কারণে কাফফারা নেই।
চতুর্দশ : নারীর সৌন্দর্যের জন্য অলঙ্কার পরিধান করা
৩৩৫. যদি অলঙ্কার সৌন্দর্য হয়, তাহলে সতর্কতা হলো তা ত্যাগ করা। যদিওবা
সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে না করে থাকে। বরং তা হারাম হওয়াটাই জোরালো মত। ৩৩৬. ইহরামের পূর্বে যেসব অলঙ্কার পরতে অভ্যস্ত ছিল সেগুলো ইহরামের জন্য খুলে ফেলা আবশ্যক নয়।
৩৩৭. যেসব অলঙ্কার পরতে অভ্যস্ত ছিল সেগুলো পুরুষকে প্রদর্শন করবে না, এমনকি স্বীয় স্বামীকেও না।
৩৩৮. অলঙ্কার পরা হারাম। কিন্তু কাফফারা নেই।
পঞ্চদশঃ শরীরে তেল মালিশ করা
৩৩৯. অধিকতর সতর্কতা, বরং শক্তিশালী মত হলো শরীরে তেল মালিশ করা হারাম। যদিওবা তাতে সুঘ্রাণ না থাকে।’
৩৪০. যদি ইহরামের সময় পর্যন্ত সুঘ্রাণ বজায় থাকে, তাহলে ইহরামের আগে সে জাতীয় কোনো সুঘ্রাণযুক্ত তেল মাখা জায়েজ নয়।
৩৪১. যদি প্রয়োজনের কারণে এবং নিরুপায় হয়ে তেল মালিশ করে, তাহলে কোন দোষ নেই।
৩৪২. তেলের মধ্যে যদি সুঘ্রাণ (যেমন জাফরান) না থাকে, তাহলে তা থেকে নিষেধ নেই।
৩৪৩. যদি তেলে সুঘ্রাণ না থাকে, তাহলে তা মালিশ করলে কাফফারা নেই।
৩৪৪. যদি তেলে সুঘ্রাণ থাকে, তাহলে তার কাফফারা হলো একটি ভেড়া। যদিও সেটা জরুরি কারণে হয়।
ষোড়শ : নিজের বা অন্যের শরীর থেকে চুল অপসারণ করা। সে ইহরামকারী হোক আর না হোক
৩৪৫. চুল অপসারণ হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে তা পরিমাণে কম-বেশি হওয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এমনকি একটি চুলও যদি হয়।
৩৪৬. চুল অপসারণ যদি জরুরি কারণে হয়, তাহলে দোষ নেই। যেমন উকুনের আধিক্য এবং মাথাযন্ত্রণা বা চোখের চুল যা বিরক্তি সৃষ্টি করে।
৩৪৭. যদি গোসল কিম্বা ওযুর সময় উদ্দেশ্য ছাড়াই কোনো চুল উপড়ে যায়, তাহলে আপত্তি নেই।
৩৪৮. চুল অপসারণের ক্ষেত্রে তা শেভ করা কিম্বা উপড়ে ফেলা কিম্বা কাঁচি দিয়ে ছাঁটা ইত্যাদির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
৩৪৯. যদি শেভ করা জরুরি কারণে না হয়, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো একটি ভেড়া কাফফারা দিতে হবে। বরং এক্ষেত্রে ভেড়া ধার্য হওয়ার বিষয়টি অসম্ভব নয়।
৩৫০. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো মাথার চুলকে মুণ্ডন করা ছাড়া অন্যভাবেও যদি চুল অপসারণ করে, তাহলেও মুণ্ডন করার মতই কাফফারা দিতে হবে।
৩৫১. যদি স্বীয় দাঁড়ি কিম্বা মাথায় হাত দেয়ার কারণে একটি কিম্বা একাধিক চুল খসে যায়, তাহলে সতর্কতা হলো এক তালু করে খাবার, ছদকাহ্ হিসেবে প্রদান করবে।
সপ্তদশ: পুরুষদের জন্য তার মাথাকে যা কিছু দ্বারা ঢাকা যায় তা দিয়ে ঢেকে ফেলা
৩৫২. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো মাথাকে এমনকি যা কিছু দ্বারা ঢাকা হয় না। তা দিয়েও না ঢাকা। যেমন কাদা, মেহেদী, ঔষধ ইত্যাদি।
৩৫৩. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো মাথার ওপর কিছুই না রাখা। যেমন বহন। করার বোঝা যা দ্বারা মাথা ঢেকে যায়।
৩৫৪. নিজের শরীরের কিছু অংশ দ্বারা মাথাকে ঢাকা জায়েজ। যেমন দু’হাত মাথার ওপর রাখা। তবে সতর্কতা হলো তা পরিহার করা।
৩৫৫, মাথাকে পানির মধ্যে ডুবানো জায়েজ নয়। বরং অন্য কোনো তরল যেমন গোলাপ জল, সিরকা ইত্যাদির মধ্যেও ডুবানো জায়েজ নয়।
(সূত্রঃ হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)
