মিনায় রাত্রিযাপন

by Syed Yesin Mehedi

৯৮৫. হাজীর জন্য ওয়াজিব হলো যিলহজ্বের এগার ও বার রাতে মিনায় রাত্রিযাপন করা। অর্থাৎ সেখানে সূর্যান্ত থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অবস্থান করবে।’

৯৮৬. কয়েক শ্রেণীর লোককে যিলহজ্বের তের তারিখের রাতের বেলা মধ্যরাত পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে। যথাঃ

এক. যে ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় শিকার করেছে। আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো যদি শিকারকে আটক করে থাকে এবং হত্যা না করে থাকে তাহলে যিলহজ্বের তেরতম রাতে মিনায় অবস্থান করবে। তবে শিকার করা ছাড়া, অন্যান্য যা কিছু শিকার থেকে ইহরামকারী জন্য হারাম, যেমন-শিকারের গোশত ভক্ষণ করা এবং শিকারীকে শিকারের সন্ধান দেয়া ইত্যাদি থেকে যদি বিরত না থাকে, তাহলে তেরতম রাতে রাত্রি যাপন ওয়াজিব নয়।

দুই. যে ব্যক্তি যিলহজ্বের বারতম দিনে মিনা থেকে বের হয়নি এবং যিলহজ্বের তেরতম রাতের সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে থেকে যায়।

৯৮৭. কয়েকটি শ্রেণী রয়েছে, যাদের জন্য যিলহজ্বের এগার, বার ও তেরতম রাত্রে অবস্থান করা ওয়াজিব নয়। যথাঃ

এক. অসুস্থ ব্যক্তি এবং তাদের পরিচর্যাকারীরা। আর অন্য যারা যে কোন কারণে সেখানে অবস্থান করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়।

দুই. যারা ভয় পায় যে যদি রাত্রিটা থেকে যায়, তাহলে মক্কায় তাদের মালামাল বিনষ্ট হয়ে যাবে। তবে শর্ত হলো উক্ত মালামাল গণনাযোগ্য হতে হবে।

তিন, যারা রাতটা মক্কায় জাগ্রত থাকে এবং সকাল পর্যন্ত ইবাদতে ব্যস্ত থাকে। আর তা ছাড়া অন্য কোনো কাজ না করে, শুধুমাত্র দরকারি কাজকর্ম ছাড়া। যেমন খাওয়া ও পান করা (প্রয়োজন পরিমাণে) এবং ওযুকে পুনঃসম্পন্ন করা।

৯৮৮. যে ব্যক্তি তামাকু ওমরাহর ইহরাম অবস্থায় শিকার করা এবং স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকেনি তাকে যিলহজ্বের তেরতম রাত্রে অবস্থান করতে হবে। আর এ নির্দেশটি হজ্বের জন্য নির্দিষ্ট নয়।

৯৮৯. এই তিন রাতে যতটুকু রাত্রি যাপন করতে হবে তার পরিমাণ হলো-রাতের শুরু থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত।’ কাজেই যে ব্যক্তি সূর্যাস্ত থেকে রাত্রি যাপন করেছে তার জন্যে ঐ সময়ের পরে সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বাধা নেই। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো সূর্যোদয়ের পূর্বে মক্কায় প্রবেশ করবে না।

৯৯০. যে ব্যক্তি রাতের প্রথম অংশে বিনা কারণে মিনায় ছিল না, সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো সে মধ্যরাতের আগে মিনায় ফিরে আসবে এবং সকাল পর্যন্ত অবস্থান করবে।

৯৯১. মধ্যরাতকে সূর্যাস্তের শুরু থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত হিসাব করতে হবে সতর্কতামূলক ওয়াজিবের ভিত্তিতে। আর সতর্কতা হলো মাগরিবের শরীয়তভিত্তিক সময় থেকে হিসাব করা।

৯৯২. মিনায় রাত্রিযাপন ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহর আনুগত্যের উদ্দেশ্যে খাঁটি নিয়তে তা পালন করতে হবে।

৯৯৩. মক্কা ছাড়া অন্যত্র ইবাদাতে ব্যস্ত হওয়া ও মিনায় না যাওয়া জায়েজ নয়। এমনকি মক্কা ও মিনার মধ্যবর্তী রাস্তায়ও না (সতর্কতামূলক ওয়াজিব অনুযায়ী)।

৯৯৪. যে ব্যক্তির মিনায় অবস্থান করা ওয়াজিব সেখানে যদি রাতে অবস্থান করা পরিত্যাগ করে তবে তাকে প্রত্যেক রাত্রের জন্য একটি ভেড়া কুরবানী করতে হবে।

৯৯৫. কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার প্রশ্নে তা জ্ঞাতসারে বা ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত এবং মাসআলা না জানার কারনেই হোক, এর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

৯৯৬. যারা মক্কায় সকাল পর্যন্ত ইবাদতে ব্যস্ত ছিল এবং মিনায় আসেনি, তাদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।

৯৯৭. যাদেরকে ৯৮৬ নং মাসআলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিনায় অবস্থান করা তাদের জন্য ওয়াজিব নয় তারা যদি অবস্থান না করে তাহলে প্রত্যেক রাতের জন্য একটি করে ভেড়া কাফফারা প্রদান করবে।

৯৯৮. যে ভেড়া (কাফফারার জন্য) কুরবানী করা হবে, তা হজ্বের জন্য মিনায় যে পশু জবাই করা আবশ্যক তার কোন শর্তের অধিকারী থাকা অপরিহার্য নয়।

৯৯৯. কাফফারার ভেড়া জবাই করার জন্যে কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই। এমনকি তার নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের পরেও তা কুরবানী করতে পারবে। যদিও সতর্কতা হলো মিনায়ই কুরবানী করা।

১০০০. যদি রাতের প্রথম ভাগের কিছু অংশ, যা মিনায় যাপন করা দরকার, সে সুযোগ না পায়, কিম্বা মধ্যরাতের আগেই মিনা থেকে বের হয়ে যায় তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো একটি ভেড়া কুরবানি করবে।’ এক্ষেত্রে ওযর বা সমস্যা থাকা বা না থাকায় কোন পার্থক্য নেই।

১০০১. যাদের জন্য যিলহজ্বের বারতম দিনে রওনা হওয়া জায়েজ, তাদেরকে যোহরের পরে রওনা দিতে হবে। যোহরের পূর্বে জায়েজ নয়। আর যারা তেরতম দিনে রওনা হয়, তারা যে কোন সময়ে রওনা হওয়ার ব্যাপারে স্বাধীন।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔