মিনার তৃতীয় ওয়াজিব কাজ

by Syed Yesin Mehedi

মাথামুণ্ডন কিম্বা চুল বা নখ ছাঁটাইকরণ

৯০১. প্রত্যেক মুকাল্লাফ ব্যক্তির স্বাধীনতা রয়েছে যে, কুরবানির করার পর হয় তার মাথা ন্যাড়া করবে অথবা তার নখ কিম্বা চুলের কিছু অংশ ছেঁটে ফেলবে। তবে কয়েক শ্রেণীর লোক ছাড়া ।

প্রথম : নারীরা, যাদের চুল কিম্বা নখের কিছু অংশ ছেঁটে ফেলতে হবে । তাদের জন্য বাহ্যত মাথা ন্যাড়া করা যথেষ্ট নয় ।

দ্বিতীয় : যাদের হজ্বের প্রথম বছর, সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো, তাদের মাথা ন্যাড়া করতে হবে ।

তৃতীয় : যে ব্যক্তি উকুন ইত্যাদি দূর করার জন্য তার মাথার চুলকে মধু, বা আঠা বা এ জাতীয় দ্রব্য দ্বারা লেপ্টে দিয়েছে, সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো, তার মাথাও ন্যাড়া করতে হবে।

চতুর্থ : যে ব্যক্তি তার চুলকে একত্রিত করে গিরা দিয়েছে এবং পরস্পর জড়িয়ে ও বুনে রেখেছে, সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো তাকেও মাথা ন্যাড়া করতে হবে ।

৯০২. যদি অনির্ণয়যোগ্য হিজ্বড়া হয় এবং এই তিন শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে। সতর্কতা হলো নখ-চুল ছাঁটাইও করবে, মাথাও ন্যাড়া করবে ।

৯০৩. সতর্কতা হলো , যে মাথা ন্যাড়া করবে সে যেন সমগ্র মাথাকে ন্যাড়া করে।

৯০৪. তাছীর বা ছাঁটাই করার ক্ষেত্রে মাথা কিম্বা দাড়ি কিম্বা গোঁফ থেকে সামান্য কিছু চুল তুলে ফেলাই যথেষ্ট। সেটা যেভাবেই হোক আর যে হাতিয়ারের সাহায্যেই হোক না কেন । অথবা নখ ছেঁটে ফেলা। আর উত্তম হলো কিছু পরিমাণ। চুলও ছেটে ফেলা এবং নখও ছেটে ফেলা ।

৯০৫. মাথা মুণ্ডন এবং নখ-চুল ছাটা যেহেতু ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত কাজেই খাঁটি সাত সহকারে এবং ভ-ামি ত্যাগ করে মহান আল্লাহর আনুগত্যের উদ্দেশ্যেই তা ওজন করতে হবে । এর ভিন্ন কিছু হলে তা সঠিক হবে না। আর যা দ্বারা সে ইহরাম থেকে হালাল হবে, সেটা আর হালাল হবে না।

৯০৬, হাজী নিজেই কিম্বা নাপিত দ্বারা মাথা ন্যাড়া করা জায়েজ। নখ-চুল ছাঁটার বেলায়ও এটা জায়েজ। তবে নিজে নিয়্যত করবে এবং উত্তম হলো নাপিতও নিয়্যত করবে।

৯০৭, চুল-নখ ছাঁটাইর বেলায় দাঁড়ি শেভ করা যথেষ্ট হবে না ।

৯০৮. তাকছীরের জন্য বগলের নিচের কিম্বা লজ্জাস্থানের চুল ছাঁটাই করা সমস্যামুক্ত নয় ।

৯০৯, মাথা ন্যাড়া করার ও তাকছীরের স্থান হলো মিনা। আর সুযোগ থাকা অবস্থায় অন্য স্থানে তা জায়েজ নয় ।

৯১০, সতর্কতা হলো ঈদের দিনে এ কাজ করা। যদিও তাশরীকের দিবসসমূহে শেষ অবধি বিলম্ব করা জায়েজ হওয়াটা অসম্ভব নয়।

৯১১, যদি কেউ মিনায় মাথা ন্যাড়া না করে এবং তাকছীর না করে এবং সেখান থেকে রওনা হয়ে যায় তাহলে তাকে ফিরে আসতে হবে এবং উক্ত আমল সম্পন্ন করতে হবে। আর এই নির্দেশের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত কিম্বা ভুলক্রমে বা বিস্মৃতির বশে অথবা মাসআলা না জানার কারণে তা বর্জন করে থাকুক- কোন পার্থক্য নেই ।

৯১২. যদি উক্ত ব্যক্তির জন্য মিনায় ফিরে আসা সম্ভব না হয়, তাহলে যেখানেই আছে সেখানেই মাথা ন্যাড়া করবে কিম্বা তাকছীর করবে। এরপর সম্ভব হলে তার চুলকে মিনায় পৌঁছাবে । আর মুস্তাহাব হলো মিনায় স্বীয় তাঁবুর স্থলে চুলকে দাফন

করা।

৯১৩. তাকছীর কিম্বা মাথা ন্যাড়া করার পূর্বে হজ্বের তাওয়াফ করা জায়েজ নয় । একইভাবে সাঈ এগিয়ে আনাও জায়েজ নয় ।

৯১৪. যদি মাথা ন্যাড়া করা কিম্বা তাকছীরের পূর্বে তাওয়াফ ও সাঈ করে ভুলক্রমে কিম্বা নির্দেশ না জেনে, তাহলে তাকে ফিরে আসতে হবে এবং মাথা ন্যাড়া কিমা ডাকছার করতে হবে । এরপর তাওয়াফ এবং তার নামায ও সাঙ্গ সম্পন্ন করতে মাথা ন্যাড়া বা তাকছীর করবে। আর তাওয়াফ ও নামায এবং সাঈ পুনঃ আদায় করতে হবে। আর যদি মিনায় প্রত্যাবর্তন করতে না পারে, তাহলে যেখানে আছে, সেখানেই করবে।

৯১৫. যদি শুধু তাওয়াফ জ্ঞাতসারে বা ইচ্ছাকৃতভাবে আগে সম্পন্ন করে থাকে তাহলে ভেড়া কুরবানী করা প্রয়োজন নেই । আর যদি সাঈ আগে সম্পন্ন করে তাহলেও কাফফারা হিসেবে ভেড়া কুরবানী করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু মাথা মুণ্ডন কিম্বা তাকছীর এবং তাওয়াফ ও নামাযের পর, তা পুনরায় আদায় করতে হবে ।

৯১৬. যদি জ্ঞাতসারে কিম্বা অজ্ঞাতসারে, কিম্বা ভুলে যাওয়ার কারণে তাওয়াফ কিম্বা সাঈ কিম্বা উভয়ের পরে মাথা ন্যাড়া করে কিম্বা তাকছীর করে, তাহলে সতর্কতা হলো তা পুনঃ আদায় করবে, যাতে ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হয় । আর যদি তার কর্তব্য হয় মাথা ন্যাড়া করা, তাহলে সতর্কতাবশত ব্লেডকে মাথার ওপর টানবে ।

৯১৭. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো- প্রথমে মিনায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবে, অতঃপর কুরবানী করবে । তারপর তাকছীর কিম্বা মাথা মুণ্ডন করবে।’

৯১৮, যদি এই ধারাক্রমের ব্যতিক্রম করে, সেটা যদি উদাসীনতা ও ভুলবশত হয়ে থাকে তাহলে পুনঃআদায় আবশ্যক নয় । আর যদি মাসআলা না জানার কারণে হয়, তাহলে পুনঃআদায় দরকার না হওয়া অসম্ভব নয়। তবে সতর্কতা হলো পুনঃআদায় করা। আর যদি জ্ঞাতসারে ও ইচ্ছাকৃতভাবে হয়, তাহলে সম্ভব হলে সতর্কতাকে বর্জন করবে না।

৯১৯. যে ইহরামকারীর কর্তব্য ছিল মাথা ন্যাড়া করা, সে মাথা ন্যাড়া করার পর কিম্বা যার কর্তব্য ছিল তাকছীর করা, তার তাকছীর করার পর ইহরাম থেকে বের হয়ে যাবে । তখন হজ্বের ইহরামের মাধ্যমে তার ওপর যা কিছু হারাম হয়ে পড়েছিল, সেগুলোর সবকিছুই আবার হালাল হয়ে যাবে । শুধুমাত্র স্ত্রী ও সুগন্ধী ছাড়া ।

(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔