ইহরাম
প্রশ্ন-১৭ : এক ব্যক্তি মাসআলা না জানার কারণে জেদ্দা এয়ারপোর্টে মুফরাদা ওমরাহ’র জন্য ইহরাম বাঁধে। অতঃপর তাওয়াফ, নামায এবং সাঈ সম্পন্ন করার পর সে বুঝতে পারে যে, তাকে যেকোনো একটি মীকাতে যেতে হতো, এমতাবস্থায় তার কর্তব্য কী?
উত্তর: আপাতত কোনো কর্তব্য নেই। হ্যাঁ যদি কারো পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে থাকে কিম্বা মানতের কারণে ওমরাহ ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে যথেষ্ট হবে না।
প্রশ্ন-১৮: এক ব্যক্তি হজ্ব ও যিয়ারত সংস্থার কর্মচারি। পেশাগত কর্তব্য পালনার্থে তাকে মক্কার বাইরে যেতে হতে পারে। যেমন মদীনায় ফিরে আসতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে সে পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। সে কি মীকাতে ইহরামের সময় তামাকু ওমরাহ’র নিয়্যতে ইহরাম বাঁধতে পারবে?
উত্তর: তামাত্তু ওমরাহ’র নিয়্যত করতে পারবে।
প্রশ্ন-১৯: যে ব্যক্তি মদীনাবাসীদের মীকাতের স্থান দিয়ে অতিক্রম করে যায় তাকে কি অবশ্যই মসজিদে শাজারাহ’র মধ্যে ইহরাম বাঁধতে হবে নাকি মসজিদের বাইরে হলেও যথেষ্ট হবে।
উত্তর: মসজিদের মধ্যে ইহরাম বাঁধতে হবে।
প্রশ্ন-২০: যদি শিশুর ওয়ালি তথা অভিভাবক এমন একজন মারজা’র তাকলীদকারী হয় যিনি ইহরামের সময় নারীদের জন্যেও লুঙ্গ ও আযার (ইহরামের জন্য সাদা খ- বস্ত্রদ্বয়) পরিধান করাকে আবশ্যক মনে করেন, তাহলে অবুঝ শিশুকে ইহরাম করানোর সময় ইহরামের পোশাক পরানো কি আবশ্যক হবে?
উত্তর: শিশুর ওয়ালী তথা অভিভাবক স্বীয় মারজায়ে তাকলীদের ফতোয়া অনুসারে আমল করবে। যদিও ইহরামের বিশেষ দুটি কাপড় পরিধান করা নারীদের ওপর ওয়াজিব নয়।
প্রশ্ন-২১: যদি কেউ ইরান থেকে মানত করে যে, জেদ্দায় ইহরাম বেঁধে তারপর মুফরাদা ওমরাহ সম্পাদন করার জন্য মক্কায় যাবে তার এ মানত কি সঠিক এবং তার
ইহরাম কি সঠিক হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, তার মানত এবং ইহরাম সঠিক।
বাঁধবে, তাহলে তার মানত কি সঠিক হবে? আর তার কি পুনরায় মীকাতে যাওয়ার দরকার আছে, নাকি নেই?
উত্তর : হ্যাঁ, তার মানত সঠিক এবং ইরান থেকেই তাকে ইহরাম বাঁধতে হবে। মীকাতে আর যাওয়ার দরকার নেই।
প্রশ্ন-২৩: ইরান থেকে যারা মুফরাদা ওমরাহ’র উদ্দেশ্যে জেদ্দায় প্রবেশ করে মসজিদে তানঈম (যা আদনাল হিল্ল’ বলে জ্ঞাত) থেকে ইহরাম বাঁধতে পারবে?
উত্তর: ইহরাম ছাড়া মক্কায় প্রবেশ করতে পারবে না।
প্রশ্ন-২৪ ৪ মসজিদে শাজারার নতুন করে সম্প্রসারনের প্রতি লক্ষ্য রেখে নবনির্মিত অংশ সমূহে ইহরাম বাঁধলে কি যথেষ্ট হবে? লক্ষ্যণীয়, প্রাচীন মসজিদের সীমানা নির্দিষ্ট নেই কিম্বা তা নির্ণয় করা বেশ কষ্টসাধ্য?
উত্তর : বর্তমান মসজিদের মধ্যে ইহরাম করাই যথেষ্ট হবে। যদিও তা সম্প্রসারিত ও নব নির্মিত অংশেও হয়।
প্রশ্ন-২৫ঃ হাজীদের ইহরাম বাঁধা মসজিদে জুহফা’র মধ্যে সম্পন্ন হতে হবে নাকি মসজিদের বাইরেও ইহরাম বাঁধা জায়েজ?
উত্তর: জুহফায় মসজিদের বিশেষত্ব নেই। এর বাইরেও ইহরাম বাঁধতে পারে।
প্রশ্ন-২৬: যুদ্ধাহত ভাইদের মসজিদে শাজারায় ইহরাম বাঁধা কখনো কখনো ভিড়ের কারণে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তারা কি সমজিদের বাইরে ইহরাম বাঁধতে পারবে?
উত্তর: মসজিদে শাজারায়র ভেতরে ইহরাম বাঁধতে হবে। কিম্বা ইহরামের মানত দ্বারা মীকাতের আগেই মসজিদের থেকে এগিয়ে গিয়ে ইহরাম বাঁধবে।
প্রশ্ন-২৭: যে সব নারীর মসজিদে প্রবেশ ও অবস্থান করা নিষিদ্ধ তাদের জন্য মসজিদে শাজারার বাইরে ইহরাম বাঁধা কি জায়েজ নাকি জায়েজ নয়? তাছাড়া, ওযরগ্রস্ত নয় এমন লোকদের জন্য উক্ত মসজিদের বরাবর/ সমান্তরাল কোনো স্থান থেকে ইহরাম বাঁধার হুকুম কী?
উত্তর: যারা মসজিদে শাজারার পথ দিয়ে মক্কায় যায় তাদের জন্য মসজিদে শাজারার বাইরে ইহরাম বাঁধা যথাযথ নয়। কিন্তু ওযরগ্রস্ত নারী যদি পারে তাহলে মসজিদের মধ্যে দিয়ে অতিক্রমরত অবস্থায় ইহরাম বাঁধবে। আর যদি ভিড় কিম্বা অন্য কোন কারণে এভাবে ইহরাম বাঁধা তাদের জন্য সম্ভব না হয় এবং তাদের ওযর দূরীভূত হওয়া পর্যন্ত ইহরামকে বিলম্বিত করতে না পারে তাহলে ওয়াজিব হলো জুহফা কিম্বা তার সমান্তরাল কোনো স্থান থেকে ইহরাম বাঁধা। তেমনিভাবে শারয়ী মানতের দ্বারা মদীনায় স্বীয় অবস্থানস্থল (মঞ্জিল) থেকে ইহরাম বাঁধতে পারবে।
প্রশ্ন-২৮। স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে স্বীকাতের পূর্বে ইহরাম বাঁধার মর্মে মানত করলে তা কি স্থির হয়? আর সামগ্রিকভাবে স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর মানতের হুকুম কী?
উত্তর: স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীর মানত তার অনুমতির ওপর নির্ভরশীল নয়।
প্রশ্ন-২৯৪ হজ্বের ইহরাম কি প্রাচীন মক্কা থেকে হতে হবে নাকি বর্তমান মক্কানগরীর যে কোনো স্থান থেকেই ইহরাম বাঁধা যাবে?
উত্তর : বর্তমান মক্কানগরীর সব জায়গা থেকেই ইহরাম বাঁধা জায়েজ। কিন্তু এহতিয়াত হলো যেন প্রাচীন মক্কার সীমানার বাইরে না হয়। আর অধিকতর শ্রেষ হলো মসজিদুল হারামের মধ্যে ইহরাম বাঁধা।
প্রশ্ন-৩০ঃ যদি হজ্বকারী ব্যক্তির উকুফাইন (অর্থাৎ দুই স্থানে অবস্থান) করার পর কিম্বা হজ্বের আমলসমূহ সম্পূর্ণ হওয়ার পর তার মনে পড়ে যে সে ইহরাম বাঁধেনি কিম্বা ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করে থাকে তাহলে তার কর্তব্য কী?
উত্তর: যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ইহরামকে বর্জন করে থাকে তাহলে উল্লিখিত প্রশ্নের
ক্ষেত্রে তার আমল বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু যদি হজ্জের ইহরামকে ভুলে গিয়ে থাকে অতঃপর আমলসমূহ সম্পূর্ণ করার পর কিম্বা উকুফাইন (দুই স্থানে অবস্থান) এর পর অথবা এমন সময় যখন ইহরামকে সম্পন্ন করার আর উপায় থাকে না, তখন যদি মনে গড়ে তাহলে তার আমল সঠিক। আর বাহ্যত অজ্ঞের হুকুম ভুলে যাওয়ার হুকুমেরই অনুরূপ। অর্থাৎ যদি এমন সময় মাসআলাটি বুঝতে পারে যখন আর ইহরাম সহকারে হজ্বের সকল আমলকে সম্পন্ন করতে পারবে না সেক্ষেত্রে তার হজ্ব সঠিক। আর অজ্ঞতা ও ভুলে যাওয়ার সবগুলো ক্ষেত্রে এহতিয়াতে মুস্তাহাব হলো পরবর্তী বছরে হজ্বকে পুনঃ আদায় করা।
প্রশ্ন-৩১ : বুঝসম্পন্ন শিশু ওয়ালী তথা অভিভাবকের নির্দেশ ছাড়াই ইহরাম বেঁধেছে এবং কেবল সাঈ ও তাকসীরকে সম্পন্ন করেছে। এমতাবস্থায় অবশিষ্ট আমলের ক্ষেত্রে তার কিম্বা তার অভিভাবকের কর্তব্য কি?
উত্তর : তাওয়াফ ও নামায সম্পন্ন করবে এবং এহতিয়াতের ভিত্তিতে সাঈ ও ঢাকসীর পুনঃ আদায় করবে। অতঃপর তাওয়াফে নিসা এবং তার নামায সম্পন্ন করবে।
প্রশ্ন-৩২: তালবিয়্যাহ উচ্চারণ করার সময় হরকত দ্বারা বিরাম আর সাকিনের দ্বারা ওয়াছল তথা সংযুক্ত করার হুকুম কি?
উত্তর: তালবিয়্যাহ সংশ্লিষ্ট ভাষা-ভাষীদের নিকটে শুদ্ধ হতে হবে।
প্রশ্ন-৩৩ : ইহরামের পোশাক পবিত্র হওয়ার শর্তটি কিম্বা নামাজী ব্যক্তিত্ব পোশাকের অন্যান্য শর্তাবলী কি ইহরামও সঠিক হওয়ার শর্ত বলে গণ্য? আর তা ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করলে কি ইহরাম সঠিক হবে?
উত্তর: ইহরামের পোশাকের পবিত্রতা ইহরাম সঠিক হওয়ার কোনো শর্ত নয়।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)
