৬১৪. ওমরাহর তাওয়াফ সমাপ্ত হওয়ার পর ফজরের নামাযের মতো করে দুই রাকাত নামাজ পড়া ওয়াজিব ।
৬১৫. তাওয়াফের নামায যে কোনো সুরা সহকারে পড়া যাবে, শুধুমাত্র সিজদা সম্বলিত সুরাগুলো ছাড়া। আর মুস্তাহাব হলো প্রথম রাকআতে সুরা ‘হামদ’এর পরে কুল হওয়াল্লাহু আহাদ পড়া, আর দ্বিতীয় রাকআতে কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন সূরাকে পড়া।
৬১৬. তাওয়াফের নামাযকে ফজরের নামাযের ন্যায় উচ্চৈঃস্বরে অথবা যোহরের নামাযের ন্যায় নীরবে পড়াও জায়েজ ।
৬১৭. অধিকতর সতর্কতা হলো তাওয়াফের পরপরই নামায পড়বে এবং দ্রুত সম্পন্ন করবে।
৬১৮. এই নামায মাকামে ইবরাহীমের নিকটে সম্পন্ন হওয়া ওয়াজিব। আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো মাকামের পেছনে দাঁড়িয়ে এমন ভাবে নামায পড়া যেন মাকামের পাথরটি তার ও কাবাঘরের মাঝে অবস্থান করে। আর যথাসম্ভব নিকট হয়ে দাড়ানো উত্তম। তবে অন্যের বিঘ্ন যাতে না ঘটে।
৬১৯. যদি অধিক জনসংখ্যার কারণে মাকামের পেছনে দাঁড়াতে সক্ষম না হয় এবং এমনভাবে দাড়ায় যে, বলা যায় মাকামের অনেক দূরে নামায পড়ছে তাহলে দুই পার্শ্বের কোনো এক পার্শ্বে নামায পড়বে, যাতে বলা যায় যে মাকামের নিকটে নামায পড়ছে ।
৬২০. যদি মাকামের দু’পাশ দিয়ে নিকটবর্তী হয়ে নামায পড়া সম্ভব না হয়, তাহলে মাকামের দু’পার্শ্ব ও পেছনের মধ্যে অধিকতর নিকটবর্তী দিকটিই বিবেচনা করবে। আর যদি তিন দিকই সমদূরত্বের হয় তাহলে পেছনেই নামায পড়বে । দু’পাশে যথেষ্ট হবে না। আর যদি দু’পার্শ্ব পেছনের দিক থেকেও মাকানের নিকটবর্তী হয়, কিন্তু কোনোটাই মাকামের নিকটবর্তী না হয় তাহলে পেছনে নামায পড়াই জায়েজ হওয়াটা অসম্ভব নয়। তবে সতর্কতা হলো মাকামের পেছনে একবার নামায পড়বে এবং দুই পার্শ্ব থেকে নিকটবর্তী বিবেচনা করে সেই পার্শ্বে আরেকবার নামায পড়বে । আর অধিকতর সতর্কতা হলো যতক্ষণ সাঈ’র সময় সংকীর্ণ হয়ে না আসে তত্ক্ষন যদি মকামের পেছনে নামায পড়া সম্ভব হয়, তাহলে নামায় পুনঃ আদায় করবে।
৬২১. মুস্তাহাব তাওয়াফের নামায মসজিদুল হারামের যে কোন জায়গায় পড়া জায়েজ। যদিও সুযোগ থাকা অবস্থায় বরং বলা হয়েছে যে ইচ্ছাকৃতভাবে তা বর্জন করতেও পারে ।
৬২২. যদি কেউ ওয়াজিব তাওয়াফের নামাযকে ভুলে যায়, তাহলে যখনই স্মরণে আসবে তখনই মাকামে ইবরাহীম-এর পিছনে তা সম্পাদন করবে। আর ৬১৮ নং মাসআলা ও তৎপরবর্তীতে যা উল্লেখিত হয়েছে তদানুযায়ী আমল করবে ।
৬২৩. যদি তাওয়াফের নামায ভুলে যায় এবং সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈরত অবস্থায় তার মনে পড়ে তাহলে সেখানেই সাঈকে ত্যাগ করে ফিরে আসবে এ দু’রাকআত নামায আদায় করবে । অতঃপর সাঈকে ঐ স্থান থেকেই সম্পূর্ণ করবে।
৬২৪. যে ব্যক্তি তাওয়াফের নামায ভুলে গেছে এবং নামাযের পরে অবশিষ্ট যে আমলসমূহ পালনীয় ছিল সেগুলো সম্পন্ন করে ফেলেছে, সেক্ষেত্রে দৃশ্যতসেগুলো পুনঃ আদায় করা আবশ্যক নয় । যদিও তা করাই সতর্কতামূলক মুস্তাহাব ।
৬২৫. যদি (তাওয়াফের) নামাযকে ভুলে যাওয়া ব্যক্তির জন্য মসজিদুল হারামে প্রত্যাবর্তন করা দূরহ হয়, তাহলে যেখানেই তার মনে পড়বে সেখানেই নামায সম্পূন্ন করবে। যদিও বা সে অন্য শহরে থাকে। আর হেরেম শরীফে প্রত্যাবর্তন আবশ্যক নয় যদিও তা সহজ্বসাধ্য হয়ে থাকে ।
৬২৬. যদি কেউ (তাওয়াফের) এই নামায না পড়ে মারা যায়, তাহলে তার জ্যোষ্ট পুত্রের ওপর তার কাযা পড়া ওয়াজিব ।
৬২৭. যে ব্যক্তি মাসআলা জানে না, তার জন্য নির্দেশ হবে বিস্মৃত বা ভুলে যাওয়া ব্যক্তির ন্যায়, যা উল্লেখিত হয়েছে ।
৬২৯. যদি কোন ব্যক্তি কিরআত (কুরআন পড়া) কাজ যিকিরসমূহকে সঠিকভাবে শিখতে না পারে, তাহলে নামায় যেভাবেই সক্ষম হয়, সেভাবেই নিজে তা সম্পাদন করবে এবং এতেই যথেষ্ট হবে। আর যদি সম্ভব হয়। তাহলে কাউকে নিযুক্ত করবে যে নামাযকে তার জন্য শিখিয়ে দেবে। আর সতর্কতা হলো মাকামে ইবরাহীমের পিছনে কোনো ন্যায়পরায়ন ব্যক্তির পেছনে তাওয়াকের নামায পড়বে। তবে জামায়াতে তাওয়াফের নামায পড়া যথেষ্ট মনে করলে চলবে না, যেমনভাবে প্রতিনিধি নিযুক্ত করাও যথেষ্ট নয় ।
৬৩০. তাওরাফের নামায যে কোনো সময়ে পড়া যায়। যদি তা ওয়াজিব নামাযের ওয়াক্তের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। অর্থাৎ যদি তাওয়াকের নামায পড়ে তাহলে, প্রাতাহিক নামায হাতছাড়া হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আগে প্রাত্যহিক নামায পড়তে হবে।
৬৩১. মুস্তাহাব তাওয়াফের নামায মাকামে ইবরাহীমের নিকটে পড়া আবশ্যক নয়। বরং মসজিদুল হারামে যে কোনো স্থানেই তা জায়েজ। বিশেষ করে ভিড়ের সময়ে অন্যান্য হাজীবৃন্দের দিকটা বিবেচনা করা বাঞ্ছনীয় । (সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)
