বিবিধ মাসায়েল সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর ও ফতোয়া 

by Syed Yesin Mehedi

প্রশ্ন-১০৮৬: মসজিদুন্নবীতে (সাঃ) কি জামায়াতে নামায শেষ হওয়ার পরে এসজিদের কার্পেটের ওপর সিজদা করতে পারবে? নাকি যেখানে পাথর বসানো আছে সেখানে যাবে এবং পাথরের ওপরে নামায পড়বে?

উত্তর: যেখানে পাথর বসানো রয়েছে সেখানে যাওয়ার দরকার নেই।

প্রশ্ন-১০৮৭: যে ব্যক্তি মসজিদুল হারামে নামাযকে বৃত্তাকার সারিতে পড়েছে এমনভাবে যে, ইমামের সামনা-সামনি কিম্বা তার দুই পার্শ্বে দাঁড়িয়ে ছিল, তার এই মায কি পুনঃ আদায় করার দরকার রয়েছে?

উত্তর: বর্তমান অবস্থায় পুনঃ আদায়ের দরকার নেই।’

প্রশ্ন-১০৮৮: যদি কেউ মক্কা শরীফ অথবা মদীনা শরীফের কোনো একটি মসজিদে প্রবেশ করে এবং দেখতে পায় যে, জামায়াত শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু নামাযীরা মসজিদে রয়েছে, এমতাবস্থায় সে কি বিদ্যমান শর্তাদি অনুযায়ী একাকী নামায পড়তে পারবে? নাকি তাকে হোটেলে ফিরে আসতে হবে এবং তার নামাযকে যার ওপর সিজদা করা সঠিক হয় তার ওপরে পড়তে হবে?

উত্তর: সে সেখানেই এবং তাদের নামায অনুযায়ী নামায পড়তে পারবে।

প্রশ্ন-১০৮৯: আরবে যেসব চাটাই ইরানী ও অ-ইরানী হাজীদের দ্বারা ব্যবহৃত হয় তার ওপর সিজদা করা কি জায়েজ? উল্লেখ্য, উক্ত চাটাইসমূহ সূতা দ্বারা মিশ্রিত।

উত্তর: যদি সাধারণ বিচারে তা চাটাইয়ের উপর সিজদা বলে গণ্য হয় তাহলে আপত্তি নেই।

প্রশ্ন-১০৯০: যদি এমনভাবে নামায পড়া হয় যা জানা নেই যে, আহলে সুন্নাতের মতানুযায়ী কি-না, যেমন সামনের সারির নামাযীদের পিঠে সিজদা করা এবং সারিসমূহের মধ্যে সংযোগ রক্ষা না করা… ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে নামাযকে কি পুনঃআদায় করতে হবে?

উত্তর: পুনঃআদায় করতে হবে।

প্রশ্ন-১০৯১ : যারা মাগরিবের নামায পড়ার জন্য মক্কা ও মদীনার মসজিদসমূহে প্রবেশ করে এবং নিজ নামায জামাআতে পড়ে, তাদের জন্য কি মাগরিবের নামায শেষ করে অব্যবহিত পরেই ঈশার নামায পড়া জায়েজ?

উত্তর: অসুবিধা নেই। আর যদি ওয়াক্ত না হয়ে থাকে তাহলে দেরি করতে হবে।।

প্রশ্ন-১০৯২: চন্দ্র কিরনোজ্জল রাতসমূহে যারা মক্কায় ফজরের নামায অন্যান্য মুসলমানদের সাথে জামাআতে পড়ে, তাদের কি চারদিক ফর্সা হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় নামায পড়তে হবে? নাকি ঐ জামাআতে যে নামায পড়েছে সেটাই যথেষ্ট?

উত্তর: উল্লেখিত মাসআলায় জামাআত সঠিক হবে এবং পুনঃআদায়ের প্রয়োজন নেই।’

প্রশ্ন-১০৯৩ : যে ব্যক্তি সংকল্প করেছে যে, তারবীয়্যাহ্র (অর্থাৎ ৮ যিলহাজ) দিনের শেষ পর্যন্ত মক্কায় থাকবে, তার ধারণায় যেহেতু মক্কায় প্রবেশ করার দিন থেকে তাররিয়্যাহর দিন পর্যন্ত মোট দশ দিন হয়, একারণে একদিন নামায পুরোপুরি পড়েছে। কিন্তু পরে এর বিপরীত প্রমাণিত হলো এবং জানা গেল যে, দশ দিন ছিল। না। এমতাবস্থায় নামাযের ক্ষেত্রে তার কর্তব্য কী? পুরোপুরি নাকি কছর?

উত্তর: যদি বাস্তবিকই দশ দিনের নিয়ত করে থাকে এবং পরবর্তীতে এর বিপরীত প্রমাণিত হয়, যেমন সে নিশ্চিত ছিল ত্রিশ দিনে মাস হবে এবং তারবীয়্যাহ দিবস উদারণস্বরূপ মঙ্গলবারে হবে, অতঃপর জানা গেল যে মাস উনত্রিশ দিন। আর তারবীয়্যাহ্ দিবস সোমবারে। এক্ষেত্রে সে নামায পুরোপুরি পড়বে। আর যদি বাস্তবিকই নিয়ত না করে থাকে এবং শুধু মনে করে যে দশ দিন থাকবে, যেমন সে জানে উনত্রিশ দিনে মাস এবং তারবীয়্যাহর দিবস হলো সোমবার কিন্তু হিসাবে ভুল করে ফেলেছে এবং মনে করে যে ঐ দিন পর্যন্ত দশ দিন হবে অথচ বাস্তবে তা নয়; তাহলে বিপরীত প্রতীয়মান হওয়ার সাথে সাথে অধিকতর সতর্কতার ভিত্তিতে সামষ্টিকরূপে (অর্থাৎ পুরোপুরি ও কছর দুটোই) নামাযসমূহ আদায় করবে। আর যেগুলো পুরোপুরি পড়েছে সেগুলোকেও কছর হিসেবে কাযা আদায় করবে।

প্রশ্ন-১০৯৪. এক ব্যক্তি দশ বছর যাবৎ কোনো ফকীহরই তাকলীদ করেনি। এখন তাকলীদ করতে চায়। এই দশ বছরে সে মক্কায়ও গেছে। তার ইবাদতসমূহ যেমন নামায, রোযা ও হজ্ব কি সঠিক?

উত্তর: যদি তার আমলসমূহ সেই ব্যক্তির ফতোয়া অনুযায়ী হয় যার তাকলীদ করতে হবে, তাহলে সঠিক।

প্রশ্ন-১০৯৫: যেসব কুরআন মসজিদুল হারামে রয়েছে সেগুলোর কিছু কিছুর ওপর লেখা হয়েছে, ‘ইহা ওয়াক্‌ফ্ফকৃত।’ কিন্তু অন্যগুলোতে লেখা নেই। প্রচার রয়েছে যে, যেগুলোর ওপর ওয়াকফকৃত কিম্বা এরূপ কোন কথা লেখা নেই সেগুলো নেয়া জায়েজ। আর এরূপ কাজ কদাচিৎ ঘটেছেও বটে। অনুগ্রহপূর্বক বলবেন, এ কাজ কি জায়েজ?

উত্তর : সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেয়া ছাড়া জায়েজ হবে না এবং তা ফিরিয়ে দিতে হবে।

প্রশ্ন-১০৯৬: সাফা ও মারওয়া কিম্বা মাশআরুল হারামের কিছু পাথর সঙ্গে আনা কি জায়েজ?

উত্তর: সাফা ও মারওয়া থেকে জায়েজ নয়। তবে মাশআরুল হারাম থেকে নিষেধ নেই।

প্রশ্ন-১০৯৭: দুই (মসজিদুল হারাম ও মসজিদুন্নবী) মসজিদের বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হবার জন্যে তায়াম্মুমের নিয়ত কী?

উত্তর: যদি মসজিদে যৌনতাজনিত কারণে অপবিত্র হয়ে পড়ে, তাহলে তক্ষুনি বের হয়ে আসবে এবং মসজিদ থেকে বের হওয়ার জন্য গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করবে। যদি এই দিকে মনোযোগ রেখে তায়াম্মুম করে, তাহলে সঠিক ও নিয়ত সহকারে হবে।

প্রশ্ন-১০৯৮ : মসজিদুল হারাম পবিত্র করার সময় এমন পদ্ধতিতে করা হয় যে, মূল অপবিত্রতা অপসারণ করা হয় এবং তারপর পাত্র দ্বারা পানি ঢালা হয়। এভাবে প্রত্যেক দিক থেকে কালিল (তথা কম) পানি দ্বারা ধৌত করা হয়। এক্ষেত্রে মানুষের সাধারণ জ্ঞান সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় ঐ পাথর সমূহের ওপরে সিজদা করা জায়েজ হওয়াটা কি অসুবিধা ও কষ্টকর হওয়ার কারণে নাকি অন্য কোন কারণে?

উত্তর: জ্ঞান সৃষ্টি হয় না। আর যদি সন্দেহও জাগে তাহলে সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করা উচিত নয়।

প্রশ্ন-১০৯৯ : আমি আমার পিতার ভরণ-পোষণের অধীন। যদি আল্লাহ চান তাহলে, আগামী বছর আমার মায়ের সাথে আল্লাহর ঘর যিয়ারতে যাব। উল্লেখ্য, এই সফরের খরচ, আমার বাবা সাত-আট বছর ধরে সাপ্তাহিক খরচ হিসেবে কিম্বা জমা করার জন্যে যেসব টাকা আমাদেরকে দিয়েছেন তা থেকেই পরিশোধ করছি। আরো উল্লেখ করা দরকার যে, আমার বাবা এই তারিখ পর্যন্ত খুমস হিসেবে কোন টাকাই প্রদান করেননি। এমতাবস্থায় অনুগ্রহপূর্বক বলবেন যে, এই টাকা দ্বারা আমাদের হজ্বের ব্যাপারে নির্দেশ কি?

উত্তর: যদি উক্ত টাকায় খুমস বিদ্যমান থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত না থাকেন তাহলে কোন অসুবিধা নেই। আর যদি ঐ টাকায় খুমস থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকেন তাহলে ইহরাম ও কুরবানীর টাকা নিশ্চিত হালাল টাকা থেকে ব্যয় করতে হবে।

প্রশ্ন-১১০০ : অভাবী ব্যক্তি কি তার তাকছীরের কাফফারার গোশত, যেসব লোকের সে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে তাদেরকে খাওয়াতে পারবে?

উত্তর: যাদের জীবিকা নির্বাহ করা তার ওপর ওয়াজিব, তাদেরকে খাওয়াতে পারবে না।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔